logo

বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ৪ জেলায় ৪ মামলা : ৩ অভিযোগ

অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়ঃ ১০:০৫
  • সংবাদ পাঠকঃ ১৩৮৭ জন
photo

 

শামসুল আলম স্বপন, কুষ্টিয়া :

 

 

স্বাধীনতার ঘোষক,সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র বিশিষ্ট ক্রিড়া সংগঠক মরহম আরাফাত রহমান কোকো’র নাম উল্লেখ করে ওয়াজ মাহফিলে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রাখার জন্য কুষ্টিয়া -৩ সদর আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি পদপ্রার্থী মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, খুলনা ও যশোর আদালতে পৃথক ৪টি মামল হয়েছে । অপর দিকে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘণের দায়ে অভিযোগ পড়েছে ৩টি। 


গত ১৮ই জানুয়ারী কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ইবি আদালতে মামলা করেন সংক্ষুদ্ধ এক ছাত্র । মামলার বাদী গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী থানার জয়েরটেকের বাসিন্দা মো: নাজির আহমেদ চৌধুরীর ছেলে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের আবাসিক ছাত্র সোলাইমান চৌধুরী শিহাব ।  বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১৮৬০ -এর ৫০০/৫০১/৫০২ ধারা মোতাবেক ফৌজদারী মামলা হিসেবে আবেদনটি দাখিল করা হয়েছে । এই মামলায় ১ জনকে আসামী ও ৪ জনকে সাক্ষি করা হয়েছে ।  আদালত মামলাটি গ্রহন করে আদেশ দেয়ার জন্য আগামী ১লা ফেব্রুয়ারী দিন ধার্য করেছে।


গত ১৯ জানুয়ারী ইসলামি বক্তা ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে একই অভিযোগে সিরাজগঞ্জে মানহানির মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম খান । আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে।
অপরদিকে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ধর্মীয় বক্তা ও কুষ্টিয়া -৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে খুলনায় মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। 


গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের সোনাডাঙ্গা আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের খুলনা মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম বাপ্পি। মামলার এজাহারে কুষ্টিয়া জেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের ডাবিরা ভিটার বাসিন্দা মুফতী আমির হামজাকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় পাঁচজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। 
বাদীর পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘সোনাডাঙ্গা আমলী আদালতের বিচারক আসাদুজ্জামান খান মামলাটি আমলে নিয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’


এ দিকে ২১ জানুয়ারি বুধবার মুফতি আমির হামজার নামে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে। যশোর জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শহরের খড়কি এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান জিল্লু এ মামলাটি করেন। আদালতের বিচারক আছাদুল ইসলাম অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে একটি ওয়াজ মাহফিলে আমির হামজা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে অশালীন ও সম্মানহানিকর বক্তব্য দেন। একজন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য শুধু কোকোর ব্যক্তিগত মর্যাদাই ক্ষুণ্ন করেনি, বরং পুরো জিয়া পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে।

 

মামলার আরজিতে বাদী মেহেদী হাসান জিল্লু আরও উল্লেখ করেন, গত ১৭ জানুয়ারি যশোরের লালদীঘির পাড়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালে তিনি অনলাইনে ওই বক্তব্যের ভিডিওটি শুনতে পান। এতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও হতবাক হন। এই মানহানিকর বক্তব্যের কারণে জিয়া পরিবারের প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্মানহানি হয়েছে।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী বিএনপি নেতা এম এ গফুর বলেন, ‘একটি বিশেষ চক্র পরিকল্পিতভাবে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য ছড়াচ্ছে। আমরা অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে মামলা করেছি।’

 

এদিকে মুফতি আমির হামজা তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘২০২৩ সালে চট্টগ্রামের একটি মাহফিলে নামের সৌন্দর্য্য বা সন্তানের সুন্দর নাম রাখা প্রসঙ্গে উদাহরণ হিসেবে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে যে কথা বলেছিলাম তা ছিল আমার স্লিপ অব টাং। আমি সেই সময়ই ও পরবর্তীতে ভুল স্বীকার করে সংশোধন হয়ে গেছি। একাধিকবার মাফ চেয়েছি। হিংসার বশবতী হয়ে এতদিন পরে এসে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নতুন করে সামনে আনা হয়েছে।’

নতুন করে বিষয়টি আলোচনায় আসায় তিনি সংশ্লিষ্টসহ সবার কাছে আবারও দুঃখ প্রকাশ এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন ।


কুষ্টিয়া আদালতে দায়ের করা মামলায় বাদী সোলাইমান চৌধুরী শিহাব আরজিতে উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বক্তা মুফতি আমির হামজা ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ  আমলে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম ব্যঙ্গাত্মক ভাবে বিকৃত করে তাঁকে “কুকুর” বলে সম্বোধন করেন । সেই সাথে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্র মামলায় ফ্যাসিষ্ট সরকার  কারাগারে পাঠায় । আসামী আমির হামজা তাঁর নামও বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করে বিদ্রুপমুলক,অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। যা আমি ও সাক্ষিগণ গত ১৬/০১/২৬ ইং তারিখে বিকালে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের লালন শাহ হলে অবস্থান কালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ক্লিপসমুহ দেখি এবং আসামীর কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য শ্রবন করি।


তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমি নিশ্চিৎ আসামী উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে বিদ্বেষপ্রসূত মনোভাব থেকে এবং মরহম আরাফাত রহমান কোকো ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সম্মান ,সুনাম,মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্য এমন বক্তব্য প্রদান করে দেশের আপামর জনসাধারণ ও জাতীয়তাবাদী দল ও অঙ্গ সংগঠন সমুহের নেতা-কর্মীদের সামাজিক ভাবে অপমানিত ও মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছেন। অপর দিকে বিভিন্ন সময়ে আসামীর বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা যায় তিনি প্রায়শই  ইসলাম ধর্ম অবমাননাকর,উসকানীমুলক ও বিভিন্ন ব্যক্তি ও শ্রেনীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমুলক মন্তব্য করে  থাকেন।  এরূপ মন্তব্য সমাজে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার পাশাপাশি ব্যক্তি ও গোষ্ঠির মধ্যে বিদ্বেষ, ঘৃণা ও অশান্তি সৃষ্টির আশংকা তৈরী করে। এ সব আসামীর ধারাবাহিক অপরাধ প্রবণ মানসিকতা ও বিদ্বেষপ্রসূত উদ্দেশ্যের পরিচায়ক। যা বর্তমান মামলার অভিযোগসমুহ আরও সুদৃঢ় সমর্থন করে। বাদী এই মামলায় আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন জানান ।
এ দিকে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘণের দায়ে কুষ্টিয়াতে আমিরহামজার বিরুদ্ধে ৩টি অভিযোগ পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। 
 

শেয়ার করুন