logo

বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

মিরপুরের কেষ্টপুর ক্যানেলে বনজ সম্পদ লুটের অভিযোগ

অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়ঃ ০৯:৫১
  • সংবাদ পাঠকঃ ১১২১ জন
photo

 
 মো. মুনজুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
 
কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কেষ্টপুর গ্রামের জিকে প্রকল্পের ক্যানেলের দুই পাড় আজ যেন নির্বাক সাক্ষী—প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে সংঘটিত এক ভয়াবহ বনজ সম্পদ ধ্বংসের। দিনের আলোয় প্রকাশ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিভুক্ত ক্যানেলের দুই পাশে সারি সারি গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে এলাকার একশ্রেণীর প্রভাবশালী নেতাকর্মী ও পাতি নেতা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা। অথচ এই দৃশ্য দেখার বা প্রতিরোধের মতো কেউ যেন নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিকে প্রকল্পের ক্যানেলের গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের নির্ধারিত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর। একদিকে বন বিভাগের তদারকি, অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামো বিদ্যমান থাকার পরও কীভাবে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে গাছ কর্তন চলছে—তা নিয়ে বিস্ময় ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
তাদের ভাষায়, “এটি কেবল গাছ কাটার ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রের সংরক্ষিত আমানতের সঙ্গে সরাসরি খেয়ানত।” প্রতিদিনই কাটা গাছ নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়লেও কোথাও নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি কিংবা দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার কার্যকর হস্তক্ষেপ।
সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান—ক্যানেলের দুই পাশে অসংখ্য গাছ ইতোমধ্যেই কেটে ফেলা হয়েছে। কোথাও পড়ে আছে কাটা গাছের গুঁড়ি, আবার কোথাও ট্রলি ও ভ্যানযোগে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রকাশ্যেই। কিন্তু এই প্রকাশ্য অনিয়ম বন্ধে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।
এলাকাবাসীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অতি অচিরেই জিকে প্রকল্পের ক্যানেলের দুই পাশের সবুজ বেষ্টনী সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এর ফলে একদিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে, অন্যদিকে ক্যানেল রক্ষা বাঁধ পড়বে চরম ঝুঁকির মুখে।
সবুজ রক্ষা ও সরকারি সম্পদ সুরক্ষার স্বার্থে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা—এই নীরবতার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃতি ও জনস্বার্থ রক্ষায় এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন।

শেয়ার করুন