logo

শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

“অপমানজনক উপনাম ডাকো না”—কোরআনের শেখানো আদব ভেঙে ওয়াজে মন্তব্য হামজার

অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়ঃ ১০:১১
  • সংবাদ পাঠকঃ ১২৫৪ জন
photo

 

 
চৌধুরী মঞ্জুর এহসানের ফেসবুক থেকে : 
 
বাংলাদেশের এক ওয়াজ-মাহফিলে বক্তা আমির হামজা প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে অপমানজনক উপাধি ব্যবহার করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে অনেক আলেম ও সচেতন নাগরিক ইসলামী আদব ও নৈতিকতার ঘোর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে তিনি একজন মৃত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বিদ্রূপাত্মক ভাষা ব্যবহার করায়।
ইসলামে ব্যক্তিগত অপমান ও নাম বিকৃত করে ঠাট্টা-বিদ্রূপকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সূরা হুজুরাতের আয়াতে বলা হয়েছে: “হে ঈমানদারগণ, কোনো লোক-গোষ্ঠী অন্য আরেক গোষ্ঠীকে উপহাস করো না… এবং তোমরা পরস্পরের প্রতি গালি দিও না এবং একে অন্যকে অপমানজনক উপনামে ডেকো না।” তাফসিরে উল্লেখ আছে, কারও নাম বিকৃত করে তাকে ছোট করা, তার অতীত দুর্বলতা তুলে ব্যঙ্গ করা, কিংবা অপমানজনক উপাধি দেওয়া—সবই এ নিষেধের অন্তর্ভুক্ত।
একই সূরার পরের আয়াতে অন্যের দোষ অনুসন্ধান ও গিবতকে কঠোর ভাষায় নিন্দা করে বলা হয়েছে, কেউ যেন অন্যের পশ্চাতে তার সম্পর্কে এমন কথা না বলে যা সে অপছন্দ করে; এটিকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে। আলেমদের ব্যাখ্যায় মৃত ব্যক্তিকে গালমন্দ বা অপমান করা দ্বিগুণ গুনাহ হিসেবে ধরা হয়—একদিকে মানবিক মর্যাদা ভঙ্গ, অন্যদিকে তার পরিবারের হৃদয়বিদারক কষ্টের কারণ হওয়া।
ইসলামী নীতিমতে দাওয়াতি বয়ান বা ওয়াজের উদ্দেশ্য মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান, নিন্দা-বিদ্বেষ ছড়ানো নয়। কোরআন মুমিনদের “কাউলান সাদিদা” অর্থাৎ সোজা, ন্যায়সঙ্গত ও শালীন কথা বলার নির্দেশ দিয়েছে, যা অন্যের সম্মান রক্ষা করে। সেই বিবেচনায় কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতানৈক্যের কারণেও একজন মুসলমানের, বিশেষ করে ধর্মীয় বক্তার, কারও নাম বিকৃত করে অপমান করা ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী।

শেয়ার করুন