logo

শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার চারটি আসনে শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা

অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়ঃ ০৩:৩৬
  • সংবাদ পাঠকঃ ৭৭৯ জন
photo

 

: শামসুল আলম স্বপন  :  


২২ জানুয়ারি  থেকে শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। কুষ্টিয়ার চারটি আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ২৩ প্রার্থী মাঠে লড়ছেন। ২১ জানুয়ারি বুধবার   দুপুরে এ সকল প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন। 


কুষ্টিয়া -১ দৌলতপুর আসনে বিএনপির প্রার্থথী রেজা আহমদ বাচ্চু মোল্লা তার প্রয়াত পিতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক পঁচা মোল্লা, কুষ্টিয়া-২ আসন ( মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে ব্যারিষ্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, তার প্রয়াত পিতা সাবেক এমপি আ্বদুর রউফ চৌধুরী, কুষ্টিয়া-০৩ (সদর)  আসনের  বিএনপি’র প্রার্থী  ইঞ্জি : জাকির হোসেন সরকার তার প্রয়াত পিতা আলহাজ্¦ রেজাউল  সরকার ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের বেএনপি’র প্রাথী সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি তার প্রয়াত পিতা সাবেক এমপি সৈয়দ মাছউদ রুমির কবর জিয়ারত  করে  নিবার্চনী প্রচারণা শুরু করেন।  অপর দিকে জামায়াতে ইসলামীর ৪ প্রার্থী ফজরের নামাজ শেষ করে  নামেন প্রচারনায় । 


এর মধ্যে কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের জামায়াতে ইসলামীর  প্রার্থী মুফতি আমির হামজা  ইবি থানার ঝাউদিয়া হাইস্কুলে জনসভার মাধ্যমে শুরু করেন নির্বাচনী প্রচারণা।  জামায়াতের প্রার্থী মুফতি আমির হামজা তার ফেসবুক পেইজে দাবি করেন, "আমার বক্তব্য কাটাছেঁড়া করে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ছড়ানো হচ্ছে। আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার কারণে নিরাপত্তা শঙ্কায় আমি সব ওয়াজ মাহফিল স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছি।"


পাল্টা জবাবে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, "ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যারা জাতীয় নেতাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, তারা কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক সম্প্রীতি নষ্ট করছেন। আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই।" 


কুষ্টিয়া-৪ আসনে  বিএনপি’র প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী তার পিতা সাবেক এমপি সৈয়দ মাছউদ রুমীর কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন । এ আসনে জামায়াতসহ সকল প্রার্থী আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রচারণা শুরু  করেন। 


এদিকে নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কুষ্টিয়ার পুলিশ প্রশাসন কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, ভোটের মাঠ অশান্ত করার চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটিও দুই দলের দেওয়া অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, "আইন মেনে চলবেন। নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখতে যা কিছু করনীয় বলা হলো, প্রত্যেকটি জিনিস মেনে চলবেন। আপনারা যদি কেউ না মানেন তাহলে আপনাদের সাথে আমার ১২ তারিখ পর্যন্ত কথা হবে সম্পূর্ণ আইনের ভাষায়। আমি এক পা-ও এখান থেকে বিচ্যুত হবো না। আমার কাজ সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সাথে হবে। আইন ভঙ্গ করার পরে যদি কেউ বলেন আমি জানতাম না, এই শব্দটি আমাদের কাছে একেবারে অগ্রহণযোগ্য"।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও জামায়াতের এই মুখোমুখি অবস্থান কুষ্টিয়ার ভোটের মাঠে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিনের জোটবদ্ধ রাজনীতির বাইরে এসে একে অপরকে ঘায়েল করার এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে।
 

শেয়ার করুন