জনতার পত্রিকা :
কুষ্টিয়ায় এমবিবিএস না হয়ে আল্ট্রাসনো রিপোর্ট করার দায়ে শহরের কোর্টপাড়াস্থ ‘তুলসান ডায়াগনষ্টিক সেন্টার’ নামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিলগালা, প্রতিষ্ঠানের মালিকের ১মাসের কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে ওই ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনিরা আকতার। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা: শেখ মো. কামাল হোসেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতায় ছিলেন পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনিরা আকতার তার আদেশে উল্লেখ করেছেন- ডা. মহেন্দ্র কুমার আগরওয়াল পিতা দেবীদত আগরওয়াল, আমলাপাড়া, কুষ্টিয়া সদর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন- ২০০৯ এর ৫২ ধারায় অপরাধ করায় এবং স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে দোষ স্বীকার করায় ডা. মহেন্দ্র আগরওয়াল’কে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হলো। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ৭ দিনের কারাবাস করতে হবে’।
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. শেখ মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি নিজেই সোর্সিং করে যাচায় করেছি, উনি এমবিবিএস ডাক্তার না হয়েই আল্ট্রাসনো করে রিপোর্ট দিচ্ছেন। একজন এমবিবিএস ডাক্তার ছাড়া কোন ভাবেই আল্ট্রাসনোগ্রাম করা বা রিপোর্ট তৈরী করার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া উনার রিপোর্টে যে এমবিবিএস ডাক্তারের নাম ব্যবহার করা হয়েছে আমরা উনার সাথে তাৎক্ষনিক মোবাইল কলে কথা বলে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানিয়েছেন, ওই আল্ট্রাসনো করার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। তুলসান ডায়াগস্টিক সেন্টারের মালিক মহেন্দ্র আগরওয়াল এভাবে দীর্ঘদিন ধরে জাল জালিয়াতি করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন সিদ্ধান্ত নেবেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট’।
তবে এবিষয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত মহেন্দ্র কুমার আগরওয়াল এর ছোট ভাই কুষ্টিয়া শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা: কৈলাশ কুমার তুলসানের অভিযোগ, ‘আমার বড় ভাই প্রকৃত অর্থে একজন দক্ষ আল্ট্রাসনো টেকনিশিয়ান। তার আল্ট্রাসনো রিপোর্টকে মানসম্মত হিসেবেই জানেন চিকিৎসরা। উনি কার্যত: খুব সামান্য অর্থের বিনিময়ে সুবিধা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আল্ট্রাসনো করে দেয়ার কারণে শহরের শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের স্বার্থহানী হওয়ায় তারাই সিভিল সার্জনকে টাকা পয়সার বিনিময়ে ইনফ্লুয়েন্স করে এই হয়রানিটা করালেন’। বড় ভাই মহেন্দ্র যে কাজটি করছেন, এই একই কাজ জেলার সবগুলি প্রাইভেট ক্লিনিকেও হচ্ছে এবং আরও অধিক নিম্নমানের টেকনিশিয়ানদের দিয়ে করানো হচ্ছে’। আইন প্রয়োগ হলে সবার জন্যই হওয়া উচিত’।