logo

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার ‘বিন্দুমাসী’কে ঘিরে তোলপাড়

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | সময়ঃ ০৮:৩১
  • সংবাদ পাঠকঃ ১৭২৯ জন
photo

 
জনতার পত্রিকা : 
 
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও কুমারখালী এলাকায় অনিতা রানী সরকার ওরফে ‘বিন্দুমাসী’কে ঘিরে হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, আফিম ও অস্ত্রের ব্যবসা এবং আন্তঃজেলা মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার গুরুতর সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া ও পরিচিতির সুযোগ নিয়ে তিনি মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অনিতা রানী সরকার ভেড়ামারা উপজেলার বামনপাড়া গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বীরেন কর্মকারের মেয়ে।
বিগত সরকারের সময়ে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া অনিতা রানী সরকার ভেড়ামারা উপজেলার যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি বর্তমানে।
অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী এলাকার কয়েকজন মাদক কারবারির কাছ থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, রাজবাড়ীর পাংশা, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নওগাঁসহ বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা সরবরাহের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এছাড়া দৌলতপুরের ভাগজোত-তালতলা এলাকার রাজু ওরফে জিয়ার মাধ্যমে সীমান্তপথে গাঁজা, ফেনসিডিল ও অস্ত্র সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। রেলপথে মাদক পরিবহনেরও অভিযোগ রয়েছে, ভেড়ামারা-পাকশী রেলপথ ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করা হতো। এ কাজে রেলওয়ের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানে এসেছে। তবে কোনো রেল কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য থেকে আরও জানা যায়, অনিতা রানী সরকারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে একাধিক মাদক মামলা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর মধ্যে-১৯ এপ্রিল ২০২৩: কুষ্টিয়া সদর থানায় মামলা নং-৪৩। ১৭ আগস্ট ২০২৩; গোদাগাড়ী থানায় হেরোইনসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা; মামলা নং জিআর-৪২৩ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ৫ নভেম্বর ২০২৩; ভেড়ামারা থানায় মামলা নং-১০। এসব মামলা তিনটিই আদালতে বিচারাধীন।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তিনি কিছু সময় কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন এবং পরবর্তীতে পুনরায় মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক বিস্তার গড়েছেন। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গ্রেপ্তার ও মামলা সংক্রান্ত সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ তৈরি হয়। এমনকি ঢাকার মিন্টু রোডে কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ থাকার দাবি করা হয়েছে।
তদন্তের দাবি স্থানীয়দের, স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাব ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে অনিতা রানী সরকার ওরফে বিন্দুমাসী গংদের। বিশেষ করে কথিত আন্তঃজেলা মাদক নেটওয়ার্ক,সীমান্তপথে মাদক ও অস্ত্র সংগ্রহ, রেলপথে পরিবহন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের সঙ্গে আর্থিক যোগাযোগের অভিযোগগুলো পৃথকভাবে অনুসন্ধানী তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে অনিতা রানী সরকার ওরফে ‘বিন্দুমাসী’র বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

শেয়ার করুন