logo

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ০১:১৬ পূর্বাহ্ন

ওসি যখন কম্বল চোর !

প্রতিবেদন প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | সময়ঃ ১১:০৮
  • সংবাদ পাঠকঃ ২০৯০ জন
photo

সিলেট  প্রতিনিধি :

 

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনের বিরুদ্ধে জব্দকৃত চোরাচালানের কম্বল সংখ্যায় কম দেখিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া তিনি কম্বলের গুণগত মান গোপন এবং আসামিদের সুবিধার্থে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিয়েছেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা শাস্তির মুখে পড়লেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন ওসি মনির।
বিজ্ঞাপন

একাধিক মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ, এসএমপি কমিশনারের চিঠি এবং সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কম্বল আত্মসাতের ঘটনায় এসএমপি কমিশনার মোগলাবাজার থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী তোবারক হোসেনকে কৈফিয়ত তলব (শোকজ) করে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠিতে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এ ছাড়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বক্তব্য, চুরির সময়ের ছবি এবং নানা বিশ্লেষণেও এর সত্যতা মিলেছে।
 

কমিশনারের চিঠি অনুযায়ী, মোগলাবাজার থানার একটি চোরাচালানবিরোধী অভিযানে (মামলা নং: জিআর-০৫/২৬) একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে ৫৬০ পিস দ্বিস্তরবিশিষ্ট (ডাবল পার্ট) দামি ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হয়। তবে মোগলাবাজার থানার ওসি মনির হোসেনের নির্দেশে মামলার মূল এজাহারকারী এক উপপরিদর্শক (এসআই) প্রকৃত সংখ্যা ও গুণগত মান গোপন করেন। তিনি জব্দতালিকায় ৫৬০ পিসের বদলে এজাহারে মাত্র ৪৩০ পিস কম্বল দেখান। এ ছাড়া কম্বলগুলো সিঙ্গেল পার্ট, নাকি ডাবল পার্ট, জব্দতালিকায় তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

তদন্তে দেখা যায়, সিলেট শাহপরান থানার অপর একটি মামলায় (জিআর-২৬৫/২৫) মো. কামরুল হাসান নামে এক ব্যক্তি আদালত থেকে নিলামে ৬৫৮ পিস এক স্তরবিশিষ্ট (সিঙ্গেল পার্ট) পাতলা কম্বল কেনেন। পরে তার কাছ থেকে দুই ব্যবসায়ী আরমান হুদা ২২৮ পিস ও মো. সেলিম আহমদ ৪৩০ পিস কম্বল কিনে নেন। এরপর আসামি ও চোরাকারবারিদের সুবিধা পাইয়ে দিতে মোগলাবাজার থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জিম্মানামার নতুন নাটক সাজান। মো. সেলিম আহমদ আদালতে আবেদন করেন, মোগলাবাজার থানায় আটক ৪৩০ পিস কম্বল আসলে শাহপরান থানার মামলা থেকে তার কেনা নিলামের কম্বল। ওসি মনিরের পরিকল্পনা ছিল, আদালতের মাধ্যমে কম্বলগুলো সেলিম আহমদের জিম্মায় দিয়ে দামি ডাবল পার্টের কম্বলগুলো নামমাত্র মূল্যে বের করে নেওয়া এবং এজাহারে গোপন রাখা অতিরিক্ত ১৩০ পিস কম্বল নিজেরা আত্মসাৎ করা।

 

শেয়ার করুন