logo

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন

‘দিদি’র পাশে না থাকায় অপরাধবোধ হচ্ছে শতাব্দী বললেন

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | সময়ঃ ০৫:৫৫
  • সংবাদ পাঠকঃ ৬২৭ জন
photo

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক :তৃণমূল কংগ্রেস থেকে জিতে লোকসভার সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন টলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূল হারার পর দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনিসহ কয়েকজন তৃণমূল এমপির নেতৃত্বে আলাদা বলয় তৈরি হয়েছে। তবে এসব নিয়ে কোনো অপরাধবোধ নেই শতাব্দীর, তবে খারাপ সময়ে দিদির (তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দোপাধ্যায়) পাশে না থাকায় তার অপরাবোধ হচ্ছে। 

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শতাব্দী রায় বলেন,‘আমার একটাই অপরাধবোধ কাজ করছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খারাপ সময়ে তাকে ছাড়তে হচ্ছে। কিন্তু দিদিই সেই জায়গায় নিয়ে গেল আমাদের!’ 

ভারতের এ এমপি বলেন. তিনি এখনও মমতার সঙ্গে মানসিকভাবে জড়িয়ে আছেন। এই মুহূর্তে তিনি মমতার পাশে নেই, তাতে তার কষ্টও হচ্ছে। তবে তিনি বলেন, ‘আমার দুঃখটা যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে কেয়ার করতেন, তা হলে এটা হতো না।’

 

কোন পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত, তাও জানিয়েছেন শতাব্দী। তিনি বলেন, ‘ভোটের ফলের পরে যখন কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক ডাকা হলো, আমরা গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানেও হার নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ নেই। দিদির মনে হচ্ছে, উনি হারেননি, কিন্তু দলের ভেতরে হার নিয়ে কথা বলতেই হবে, সেখানে তো উনি জিজ্ঞেস করবেন, ‘‘তোমার এলাকার কেন এ রকম ফল হলো?’’ সে রকম কোনো আলোচনা নেই। শুধু বলছেন, ‘‘চিঠি লেখ’’। দু-একজন বলতে গেল। থামিয়ে দেওয়া হলো। চ্যানেলে-ইন্টারভিউতে দিদি যা বলছেন, সেগুলোই ওখানে বলা হচ্ছে। এভাবে দল চলতে পারে না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই দলের সঙ্গে আর থাকা যায় না।’

মমতাকে নিয়ে শতাব্দী বলেন, ‘দিদি অনেক দিন ধরেই কথা শোনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময়ে শেষ দিনেও দিদিকে হোয়াটসঅ্যাপ করেছিলাম। বীরভূমে কোথায় কী ভুল হচ্ছে প্রার্থীচয়নে, জানিয়েছিলাম। তখনও এক লাইনে উত্তর এসেছিল। কোনো এক ব্যক্তির নাম করে বলছেন, ওর বদমায়েশি। মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আমার নেই। কিন্তু একটা এলাকায় ১৭ বছর ধরে রয়েছি। এলাকার কোন লোকটা ভালো, কে খারাপ-দুর্নীতিবাজ, এটা বোঝার তো ক্ষমতা ছিল। কিন্তু উনি শোনেননি।’

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা মমতার ভাতিজা অভিষেকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অভিষেক তার কথা শুনেছেন। তার থেকে নানা সময়ে মতামতও নিয়েছেন। শতাব্দী বলেন, ‘অভিষেক কিন্তু শুনত। অন্যের কথা বলতে পারব না। আমার ক্ষেত্রে শুনেছে। অনেকেরই মতামত জানতে চাইত। এই গুণটা ছিল। স্টেপও নিয়েছে।’

সংসদে বিদ্রোহীরা মিলে যে নতুন ‘ব্লক’ তৈরি করেছেন, তা আদতে তাদের প্রতীকী প্রতিবাদ বলেই জানিয়েছেন শতাব্দী। তিনি বলেন, ‘আমরা এই দলের সঙ্গে থাকতে চাইছি না। যেভাবে দলের অহঙ্কার-ঔদ্ধত্য বেড়ে গিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। যত দিন মুকুল রায় ছিলেন, তত দিন উনি শুনতেন। দলে বলার জায়গায় ছিল। সব সমাধান হতো না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উনি শুনতেন। উনি চলে যাওয়ার পর থেকে আর শোনার কেউ ছিলেন না। দলে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। অভিষেকপন্থী আর মমতাপন্থী। কর্মীর আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন।’ 

তবে তৃণমূলের এ এমপি বলেন. তাদের এই মুহূর্তে বিজেপিতে যোগদানের কোনো পরিকল্পনা নেই। তাঁর কথায়, ‘আমরা আলাদা ব্লক। আলাদা বসব। আলাদা আলোচনা করব।’

শেয়ার করুন