logo

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬ ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ০১:৪০ পূর্বাহ্ন

কঙ্গোর যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | সময়ঃ ০২:৩২
  • সংবাদ পাঠকঃ ৯৬৯ জন
photo

স্পোর্টস ডেস্ক : ইবোলা সংক্রমণকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দেওয়া ২১ দিনের বাধ্যতামূলক আইসোলেশন অবস্থানে থাকার নির্দেশ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে দলকে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে—এমন হুঁশিয়ারির পরও নিজেদের প্রস্তুতি সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনছে না কঙ্গো ফুটবল দল।

 

মধ্য আফ্রিকার দেশটিতে বিরল বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ কঙ্গো দলকে সতর্ক করে দেয়। হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ বিষয়ক বিশেষ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানান, বিশ্বকাপের আগে টানা ২১ দিন ‘নিরাপদ বিচ্ছিন্ন পরিবেশে’ থাকতে হবে দলটিকে, না হলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি নাও দেওয়া হতে পারে।

জুলিয়ানি বলেন, ‘আমরা কঙ্গোকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে, ১১ জুন হিউস্টনে যাওয়ার আগে তাদের ২১ দিন নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। তারা যদি এই নিয়ম না মানে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ হারানোর ঝুঁকি থাকবে।’

 

তবে এই কড়া অবস্থানের পরও কঙ্গো দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বকাপের আগে ডেনমার্ক ও চিলির বিপক্ষে নির্ধারিত প্রীতি ম্যাচ দুটি আগের সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। অথচ ওই সময়েই দলটিকে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

৩ জুন বেলজিয়ামের লিয়েজে ডেনমার্কের মুখোমুখি হওয়ার কথা কঙ্গোর। এরপর ছয় দিন পর স্পেনের কাদিজে চিলির বিপক্ষে খেলবে দলটি।

দলের এক কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা আমাদের প্রস্তুতি সূচি অপরিবর্তিত রেখেছি। স্কোয়াডের কোনো খেলোয়াড়ই কঙ্গো থেকে আসেনি। প্রীতি ম্যাচগুলোও ঠিক আছে। শুধু কিনশাসা সফরটি বাতিল করা হয়েছে।’

বিশ্বকাপে ৫২ বছর পর জায়গা পাওয়ায় রাজধানী কিনশাসায় উদ্‌যাপনের পরিকল্পনা ছিল দলের। তবে চলমান স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে সেই সফর বাতিল করা হয়েছে।

কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনের দাবি, দলের সব খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ ইউরোপভিত্তিক হওয়ায় ঝুঁকি খুবই কম। প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রেসহ পুরো দল ইউরোপেই অবস্থান করছে। যদিও কয়েকজন কর্মকর্তা সম্প্রতি কঙ্গো থেকে বেলজিয়ামের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন, তবে খেলোয়াড়রা সংক্রমণপ্রবণ এলাকা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, বিরল বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা এখন জাতীয় পর্যায়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সংস্থাটি কঙ্গো ও প্রতিবেশী উগান্ডার পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫০ জনের মধ্যে সংক্রমণের সন্দেহ পাওয়া গেছে এবং ১৭৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই বিশ্বকাপ আয়োজক দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এত কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

বিশ্বকাপে কঙ্গো দলের ঘাঁটি হওয়ার কথা হিউস্টনে। ১৭ জুন পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের অভিযান। এরপর মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ হবে আটলান্টায় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করলে বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে পুরো সূচিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

শেয়ার করুন