মারফত আফ্রিদি, মিরপুর থেকে :
কুষ্টিয়ার মিরপুরে রবিউল ইসলাম (৩৩) নামে একাধিক মামলায় চিহ্নিত এক মাদক কারবারিকে থানা থেকে ছাড়াতে এসে বিপাকে পড়েছে জামায়াত বিএনপির ৫ নেতাকর্মী।
প্রাথমিকভাবে তাদের আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছে মিরপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে মাদক কারবারি রবিউলকে একটি মাদক মামলার এজাহারনামীয় আসামি এবং ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে স্থানীয় সদরপুর ইউপি সদস্য বিএনপি নেতা এনামুল হক সংবাদ পেয়ে গ্রেপ্তার রবিউলকে নিজেদের দলের লোক পরিচয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশকে চাপ দেনG
বর্তমান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরাসরি মাদক মামলার আসামিকে ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ইউপি সদস্য এনামুল গ্রেপ্তার রবিউলের সঙ্গে জড়িত কিনা সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেন। এই সংবাদ শোনার পর সদরপুর ইউনিয়নের আরও ৪ জন জামায়াত নেতাকর্মী থানায় এসে হেফাজতে থানা এনামুল ও গ্রেপ্তার রবিউলকে ছেড়ে দেয়ার দাবি করেন। এভাবে একজন মাদক মামলার আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে সবাই একাট্টা হওয়ায় পুলিশ ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন। হঠাৎ মিরপুর থানা পুলিশের এমন প্রশংসনীয় ভূমিকায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন- ইউপি সদস্য বিএনপি নেতা নওদা আজমপুর গ্রামের নূর মোহাম্মদ মোল্লার ছেলে এনামুল হক (৪৫), জামায়াত নেতা পরিচয়দানকারী মেহের আলী মালিথার ছেলে ও সদরপুর ইউনিয়নের জামায়াত মনোনীত ইউপি মেম্বার প্রার্থী আলাউদ্দিন (৪৩), আলী আকবরের ছেলে সুজন আলী (৩৩), রমজান মণ্ডলের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৫), ও মৃত ইছাহক মালিথার ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩৯
এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খন্দকার টিপু সুলতান মুঠোফোনে আলাপকালে জানান, এনামুল হক সদরপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা। সে রাতে থানায় কি কারণে গিয়েছে সে বিষয়ে এখনও কিছু জানতে পারিনি। খোঁজ নিয়ে বলতে পারবো।
সদরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ৪ নেতাকর্মী থানায় আটকের বিষয়ে মন্তব্যে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ওমর ফারুক জানান, এলাকার কোন এক মাদক ব্যবসায়ীকে স্থানীয় এক মেম্বার থানা থেকে ছাড়াতে গিয়েছিলো। ওই ইউপি সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় জামায়াতের ৪ নেতাকর্মী না বুঝে গিয়েছিলো। বিষয়টি যাচায় বাছায় করার জন্যই ওসি সাহেব তাদের রাতভর থানায় বসিয়ে রাখেন। এটা একটা ভুল বুঝাবুঝির কারনে হয়েছে। এটা আমরা নিজেরা বসে ঠিক করে নিবো। তবে মাদক মামলার আসামি এবং ইউপি সদস্য এনামুল আমাদের দলের কেউ নন বলেও দাবি করে এই উপজেলার জামায়াত নেতা।
মিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, মিরপুরে মাদক কারবার নির্মূলে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি রবিউল ইসলাম নামের একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় বিএনপি এবং জামায়াত নেতা পরিচয়ে ৫ জন ব্যক্তি থানায় এসে গ্রেপ্তার রবিউলকে ছেড়ে দেয়ার তদবির করেন। বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে ওই ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের সন্দেহের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসিকে অভিনন্দন :
মিরপুর থানার ওসিকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি শামসুল আলম স্বপন । তিনি বলেন মিরপুর থানার ওসি মাদকের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিলেন তা কুষ্টিয়াবাসীর কাছে উদাহরন হয়ে থাকবে।