ধর্মীয় ডেক্স :
আজ দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর শনিবার (২১ মার্চ) পালিত হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসব।
এবারের ঈদ এসেছে ৩০ রোজা পূর্ণ করার পর। গত বৃহস্পতিবার দেশের আকাশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ৩০ রোজা পূর্ণ করে শনিবার ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের প্রধান জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক জাতীয় ঈদগাহে ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী প্রস্তুত থাকবেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৈরী আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের সব আয়োজন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম ঢাকাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে ঈদের প্রধান জমাতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
ঈদের প্রধান জামাতে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ঈদগাহ ময়দানে ৩ হাজার ৫০০ নারীসহ মোট ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের সংরক্ষিত ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়া পর্যাপ্ত ওজুখানাসহ মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিমের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে নারীদের জন্য আলাদা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন মাঠে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদ জামাতকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি নজরদারি, ব্যারিকেড, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে শোলাকিয়া মাঠে সকাল ১০টায়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।