৯০-এর দশকের সেই রক্তাক্ত জনপদে তিনি ছিলেন একজন সম্পাদক । চারদিকে ছিল ভয়। ছিল অস্থিরতা। ছিল মৃত্যুর খবর। ছিল অন্যায়ের দাপট। তবু তিনি কলম থামাননি। সত্যের পথ ছাড়েননি। মানুষের কথা বলা বন্ধ করেননি। ঝিনাইদহের সাবেক দাপুটে এমপি মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে দৈনিক অধিবেশন পত্রিকায় বস্তুনিষ্ঠ নিউজ প্রকাশ করে ডাহা মিথ্যা মামলায় আসামী হয়ে কারাবরণ করতে হয় তাঁকে।
যে মানুষ একদিন আগুনের সময় পেরিয়ে এসেছেন, তিনি আজও নীরবে বসে আছেন। শরীর ক্লান্ত। পথ কঠিন। কিন্তু ভেতরের আলো নিভে যায়নি। সেই আলোই তাকে আজও টেবিলে বসায়। কাগজের কাছে টানে। মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনে। তিনি অকুতোভয় সাংবাদিক আলী কদর পলাশ ।
আজ তার পাশে বসে আছে ছোট্ট তুরান। নতুন প্রজন্মের এক কোমল মুখ। এক টুকরো ভবিষ্যৎ। মনে হয়, নানার দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসের পাশে বসে আছে আগামী দিনের আশা। একদিকে স্মৃতি। অন্যদিকে স্বপ্ন। তুরানের খেলার সাথী এখন তার নানা ভাই ।
এই ছবিটি শুধু একজন মানুষ আর একটি শিশুর ছবি নয়। এটি সময়ের ছবি। এটি ত্যাগের ছবি। এটি রক্ত, কষ্ট, দায়িত্ব আর ভালোবাসা মিশে তৈরি এক জীবনের ছবি।
একদিন তিনি রক্তাক্ত জনপদে মানুষের পক্ষে ছিলেন। আজও আছেন। শুধু সময় বদলেছে। বয়স বেড়েছে। শরীর নুয়ে এসেছে। কিন্তু একজন সম্পাদকের ভেতরের সাহস, দায়বদ্ধতা আর সত্যের প্রতি ভালোবাসা এখনও অটুট।
ক্রাচ তার শরীরকে ধরে রেখেছে। আর তুরান যেন তার মনকে ধরে রেখেছে। এই দুই ভরসার মাঝখানে বসে আছেন এক নিরলস সম্পাদক। যিনি হার মানেননি। থামেননি। এখনও নীরবে বলে যাচ্ছেন, মানুষ বেঁচে থাকে তার বিশ্বাসে, তার কাজে, আর তার রেখে যাওয়া ভালোবাসায়।