প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, সময়ঃ ০৯:০২
, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে স্বামীকে প্রবাসে রেখে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। তিনি চার সন্তানের মা। এ ঘটনায় প্রবাসী জাকির হোসেনের বোন মারুফা বেগম আজ বুধবার দুপুরে রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত নারীর নাম মুন্নি আক্তার জেসমিন। থানায় তার বিরুদ্ধে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়েসহ ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে, এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুন্নি আক্তার জেসমিন।
ভুক্তভোগী ইতালী প্রবাসী জাকির উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের উত্তর রায়পুর এলাকার আলী হায়দারের ছেলে। অভিযুক্ত মুন্নি তার স্ত্রী। মুন্নি একই উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা গ্রামের নুর উদ্দিনের মেয়ে।
প্রবাসীর অভিযোগ ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২২ বছর আগে পারিবারিকভাবে জাকির ও মুন্নির বিয়ে হয়। তাদের চার ছেলেমেয়ে রয়েছে। ২০০৯ সালে মুন্নিকে জাকির ইতালি নিয়ে যায়। সেখানে মোবাইলফোনে মুন্নি বাংলাদেশি একাধিক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই মাস আগে মুন্নি তার বাবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দেশে চলে আসে। সঙ্গে তার দুই সন্তানকেও নিয়ে আসেন তিনি। দেশে আসার পর থেকে তিনি জাকিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।
এদিকে স্বামীকে প্রবাসে রেখে মুন্নি রায়পুরের বামনী ইউনিয়নের পূর্ব কাঞ্চনপুর এলাকার বাসিন্দা সৌরভ হোসেন চুট্টুকে বিয়ে করেন। মুন্নির সঙ্গে সৌরভের পরকিয়া ছিল। এতে মুন্নি তার স্বামী জাকিরকে তালাক না দিয়েই পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করে। এছাড়া ইতালি থেকে আসার সময় জাকিরের দেওয়া ২৫ ভরি স্বর্ণ, নগদ ও ব্যাংকের এটিএম কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা মুন্নি নিয়ে গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী মারুফা আক্তার বলেন, ‘মুন্নি আমার ভাইকে তালাক দেয়নি। তিনি পরকিয়া প্রেমিককে বিয়ে করেছে। তিনি আমার ভাইয়ের স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এসব ঘটনায় মুন্নির পরিবারের লোকজন জড়িত। তাদের কারণে আমার দুই ভাগনি, ও দুই ভাগিনা অসহায় হয়ে গেছে। আমার ভাই ভেঙে পড়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মুন্নি আক্তার জেসমিন বলেন, ‘জাকির আমাকে ইতালিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। এজন্য অন্য একজনকে বিয়ে করেছি। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি।’ জাকিরকে তালাক দেওয়া ছাড়া বিয়ে করার বিষয় তিনি স্বীকার করেন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।