প্রতিবেদন প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, সময়ঃ ০৫:৫৩
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রেবতী সরকার ও আলিমুজ্জামান সাজু। গত বুধবার রাতে তাদের মৃত্যুর খবর স্বজনদের কাছে পৌঁছায়। আলিমুজ্জামান সাজুর স্বজনরা এখন অপেক্ষা করছেন মরদেহ দেশে ফেরানোর। এদিকে রেবতী সরকারের দুই সন্তান ভারতে থাকায় শুক্রবার কলকাতার নিমতলা ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামে আলিমুজ্জামান সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। তাদের মধ্যে কেউ সাজুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন। শেষবারের মত দেখার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।
সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, ‘সাজু নার্ভের চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিল। বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জানতে পারেন কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভাই সাজু মারা গেছেন। মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছে ইতিমধ্যে। শনিবার তার ভাইয়ের মরদেহ দেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’
অন্যদিকে তারালী ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে রেবতী সরকারের দেবর তপন সরকার বলেন, রেবতী আমার দাদার স্ত্রী। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ দিন আগে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। শনিবার তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু লাশ হয়ে ফিরবে সেটা ভাবিনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে ভারত থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে সাজুর মরদেহ দেশে প্রবেশ করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ১৫জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুজন ভারতীয় নাগরিক।
নিহত বাংলাদেশিরা হলেন আকরাম আলী (৭৪), দেবাশীষ দত্ত (৩৯), আফসানা শিরমিন (২৭), সর্নাশীষ দত্ত (২), বাবু আহমেদ (৩৭), রেবতী সরকার ও এস এম আলিমুজ্জামান।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।