সোনার খনি ধসে নিহত শতাধিক


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে ভূমিধসে একটি ক্ষুদ্র সোনার খনি ধসে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তা ও ত্রাণকর্মীদের বরাতে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থাগুলো।

 

মঙ্গলবার বিকেলে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের জামবয়ে গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গ্রামটি বাবুয়া শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এবং ক্যামেরুন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বালুর মতো মাটির বিশাল স্তর হঠাৎ করে একদল মানুষের ওপর নেমে আসছে এবং তাদের ঢেকে ফেলছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তিরা খনিতে কাজ করা শ্রমিক ছিলেন।

 

স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বিবৃতি অনুযায়ী, ভূমিধসের পর বহু মানুষ মাটির নিচে আটকা পড়েছেন। তবে বিবৃতিতে নিহতের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। পরে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া রেড ক্রসের স্বেচ্ছাসেবক গেরভাইস গানাগোরোহ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, ধসে পড়া স্থান থেকে শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় একটি খনি সমিতির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও রয়টার্সকে একই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।

বাবুয়ার আরেকজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খনিতে শ্রমিকরা কাজ করার সময় একাধিক ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ধসে পড়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

খনিশ্রমিক সেড্রিক এমবাঙ্গো বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মাটি পুরোপুরি ধসে গিয়ে মানুষকে চাপা দিয়েছে।’ তিনি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা দ্রুত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও ক্যামেরুনের নাগরিকরা ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যামেরুনের পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশটির অন্তত তিন নাগরিককে নিহতদের মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।

পূর্বাঞ্চলের গভর্নর গ্রেগোয়ার মভোঙ্গো রাষ্ট্রীয় রেডিওকে বলেন, এই বিপর্যয়ের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।

জামবয়ের যুব কাউন্সিলের সদস্য বার্ত্রাঁ বে ইয়াঙ্গুয়ে বলেন, ‘তাদের জীবিত পাওয়া একটি অলৌকিক ঘটনা হবে।’ তিনি বলেন, পরিবারকে চরম দুর্দশা থেকে রক্ষা করতে কাজের আশায় খনিতে আসা তরুণ-তরুণীদের এভাবে প্রাণ হারাতে দেখে তারা গভীরভাবে শোকাহত।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঠিক কতজন মানুষ দুর্ঘটনার সময় খনিটির ভেতরে ছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি।

মধ্য আফ্রিকান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে ট্রাক্টরসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ধ্বংসস্তূপ সরাতে এসব যন্ত্র ব্যবহারের কারণে মাটির নিচে এখনো জীবিত কেউ থাকলে তাদের উদ্ধারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ছোট পরিসরের অবৈধ বা অনানুষ্ঠানিক খনি ব্যাপকভাবে রয়েছে। আইনগত বিধিনিষেধ থাকলেও বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের কারণে অনেক মানুষ পরিত্যক্ত বা অনিরাপদ খনিতে জীবিকার সন্ধানে কাজ করতে বাধ্য হন। এসব খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

চলতি বছর মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রেই বিভিন্ন খনি দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা শতাধিক হওয়ায় দেশটির অনানুষ্ঠানিক খনি খাতের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।


Email: bijoynews24bd@gmail.com

প্রকাশকঃ রোকমুনুর জামান রনি

সম্পাদকঃ শামসুল আলম স্বপন

ফোনঃ 01716954919 / 01722158130

যোগাযোগঃ A-231 Housing Estate, Kushtia-7000.

© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।