প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, সময়ঃ ০৬:৪৪
বহুল আলোচিত কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের সঙ্গে জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হোসেন ইমামের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরও করা হয়েছে (১০/২০২৬) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখার সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত পত্রে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ বিধি ৩ (খ) মোতাবেক অসদাচরণের অভিযোগে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমামের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।
প্রেরিত চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তৃতীয়/চতুর্থ শ্রেণির জনবল নিয়োগে প্রশ্ন ফাঁসসহ লিখিত পরীক্ষার আগের রাতে শহরের কোর্টপাড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনবিশিষ্ট বাড়িতে অন্যায়ভাবে পূর্ব প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়, যা তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এমন কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৩ (খ) মোতাবেক অসদাচরণ বলে গণ্য। এতে কেন ওই বিধিমালার আওতায় আরএমওকে চাকরি থেকে বরখাস্ত কিংবা উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে হবে না, সেজন্য ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে শূন্যপদে ১২৫ জন তৃতীয়/চতুর্থ শ্রেণির জনবল নিয়োগে ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর সকালে শহরের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পরীক্ষার আগে অর্থাৎ ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে টাকায় চুক্তিবদ্ধ ৩০/৪০ জন আবেদনকারীকে (চাকরি প্রত্যাশী) তৎকালীন আরএমও ডা. হোসেন ইমামের বাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স করে এনে জড়ো করা হয় এবং ফাঁসকৃত প্রশ্নে পূর্ব প্রস্ততিমূলক পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠে।
ঘটনাটি জানাজানির পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ওই বাড়ির সামনে এসে জড়ো হয়। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে টাকায় চুক্তিবদ্ধ চাকরি প্রত্যাশীরা ভোর রাতেই যে যার মত ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
পরীক্ষার্থী-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এছাড়া পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত আরএমওকে কুষ্টিয়া জেনারেল থেকে বদলি করা হয়।
এদিকে দীর্ঘ ৯ মাস পার হলেও অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল কিংবা ফলাফল প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, নিয়োগ পরীক্ষাটি দ্রুতই বাতিল হতে পারে। পরবর্তীতে ফের সার্কুলার জারিসহ স্বচ্ছতার পরীক্ষা গ্রহণসহ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।