প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, সময়ঃ ০৭:২৭
জনতার পত্রিকা :
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন তাসলিমা খাতুন (২৮) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে কুষ্টিয়ায় ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্সে থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবার সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়। তাসলিমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাদ্দাম নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গত ৮ আগস্ট বিকেল পাঁচটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ শান্তিনগর এলাকায় তাসলিমা আগুনে দগ্ধ হন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে অবস্থার অবনতি ঘটে। ছাড়পত্র নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাসলিমার মা সাবেরন নেছা জানান, “তাসলিমার সঙ্গে সাদ্দামের কোনো প্রেমের সম্পর্ক বা বিয়ের প্রতিশ্রুতির বিষয় ছিল না। সাদ্দাম গোপনে তাসলিমার একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়। ভিডিওটি মুছে দেওয়ার জন্য তাসলিমা অনুরোধ করলেও সাদ্দাম তা না করে তাঁকে হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করে।” তাসলিমার ভাবি আফরোজা খাতুন দাবি করেন, “গত ৮ আগস্ট সাদ্দাম ও তাঁর বাবা তাসলিমার ওপর হামলা করে তাঁকে আগুনে দগ্ধ করেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন।” তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের আগে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে তাসলিমার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে দৌলতপুর থানা-পুলিশ সেটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। দৌলতপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, তাসলিমার মা বাদী হয়ে দুই দিন আগে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।