কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮১


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে ও বিধ্বস্ত ভবনে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। সোমবারের ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ২৪০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

 

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালি ও পেরেইরা শহর। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা এরই মধ্যে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

মঙ্গলবার পেরেইরা থেকে পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, ভূমিকম্পে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মানুষ আহত হয়েছেন এবং এখনো প্রায় ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া ১ হাজার ১০০টির বেশি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং ৮ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কম্পন পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয়। মঙ্গলবারও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক আফটার শক অনুভূত হয়েছে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মূল ভূমিকম্পের পর ৭০টিরও বেশি আফটার শক হয়েছে।

 

কালিতে ধ্বংসস্তূপে আটকা ২৩৯

প্রায় ২ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষের শহর কালিতে এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানান, ২৩৯ জন এখনো বিভিন্ন স্থানে আটকা রয়েছেন। আহত হয়েছেন ৯৪৯ জন। শহরে ৪৫টি ভবন পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।

উদ্ধার তৎপরতা সমন্বয়ের জন্য কালিতে একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। শহরের একটি হাসপাতালের কয়েকটি ওপরের তলাও ধসে পড়েছে। এসব তলার কয়েকটি অংশে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হতো। ধসে পড়া অংশে কয়েকজন রোগী আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে।

কালির উত্তরের কালিমা এলাকায় জিমনাসিও কালিমা স্কুলের একটি অংশ ধসে চার শিশু নিহত হয়েছে। আরও কয়েকজন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। স্থানীয় মেয়র আন্তোনিও কাডাভিদ জানিয়েছেন, মোট ৩০ শিশুকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

লুটপাট ঠেকাতে কালিমায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।

 

পেরেইরায় শত শত স্বেচ্ছাসেবকের উদ্ধার অভিযান

পেরেইরায় এখন পর্যন্ত ৭৯ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে শহরের দমকল বিভাগ। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে শত শত স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।

উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে শহরটিতে ‘কার-ফ্রি ডে’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর পেরেইরার পার্কে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, শহরের কেন্দ্রের অনেক এলাকায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শহরের প্রধান চত্বর বলিভার স্কয়ারে অন্তত একটি ভবন ধসে পড়েছে। কোথাও বাস ও ট্রাক ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়েছে এবং আশপাশের ভবনগুলোও ধসে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় মানুষ আতঙ্কিত।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই হতবাক। ঘটনাটি সত্যিই ভয়াবহ ছিল।’

 

মানিজালেসেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মানিজালেস শহরের মেয়র হোর্হে এদুয়ার্দো রোহাস জানিয়েছেন, সেখানে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শহরের ৬০টি ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ধসে পড়েছে।

আরও আফটার শকের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অজ্ঞাত উৎস থেকে ছড়ানো বার্তা বা পোস্ট শেয়ার না করার অনুরোধ করেছেন তিনি। এসব বার্তায় মিথ্যা বা যাচাই না করা তথ্য থাকতে পারে, যা জনমনে আরও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

 

বিভিন্ন শহরে রাত কেটেছে খোলা আকাশের নিচে

ভূমিকম্পের পর সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত পেরেইরা ও কালিসহ বিভিন্ন শহরের অনেক বাসিন্দা ঘরের বাইরে রাত কাটিয়েছেন। কারও বাড়ি ধসে পড়েছে, আবার কেউ পরবর্তী ভূমিকম্প বা ভবন ধসের আশঙ্কায় ঘরে ফিরতে সাহস করেননি।

দেশটির বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ডজন বড় ভবন ধসে পড়েছে। মঙ্গলবারও নতুন করে কম্পন অনুভূত হওয়ায় উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে সান হোসে দেল পালমার ও সান্তান্দার এলাকায় ৩ দশমিক ৬ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ

ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে কলম্বিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের উদ্ধার ও জরুরি তৎপরতায় সহায়তার কথা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কলম্বিয়াকে ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া ইকুয়েডর, ব্রাজিল, এল সালভাদর ও ভেনেজুয়েলাও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা এখনো ধসে পড়া ভবন ও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। সময় যত গড়াচ্ছে, আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত উদ্ধারের তাগিদও তত বাড়ছে। 


Email: bijoynews24bd@gmail.com

প্রকাশকঃ রোকমুনুর জামান রনি

সম্পাদকঃ শামসুল আলম স্বপন

ফোনঃ 01716954919 / 01722158130

যোগাযোগঃ A-231 Housing Estate, Kushtia-7000.

© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।