প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, সময়ঃ ০৮:০০
জনতার পত্রিকা : কুষ্টিয়ার মিরপুরে নকল সিগারেট তৈরি ও বাজারজাতকরণে অভিযুক্ত চক্রের মূলহোতা 'ভারগন টোব্যাকো'র মালিক রাইসুল ইসলাম পবনের গোডাউনে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব গোবিন্দপুর এলাকার একটি গোপন গোডাউনে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে দেখা যায়, গোডাউনটি তালাবদ্ধ কিন্তু প্রশাসন তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করেন।
অভিযানকালে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় উপযুক্ত অনুমোদন বা লাইসেন্স ও সাইনবোর্ড না ব্যবহার করে কারখানা পরিচালনা এবং আইন অমান্য করার অপরাধে কারখানা মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে উক্ত গোডাউনে নামীদামি ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরি ও সরবরাহের গোপন অভিযোগ আসছিল। প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অপরাধ দমনে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আখতারের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে ও প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, 'ভারগন টোব্যাকো'র আড়ালে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে নামে-বেনামে গোপন কারখানা ও গোডাউন গড়ে তুলেছেন রাইসুল ইসলাম পবন।
এসব কারখানায় আন্তর্জাতিক ও দেশীয় জনপ্রিয় ব্র্যান্ড যেমন—গোল্ডলিফ, বেনসনসহ বিভিন্ন নামীদামি ব্রান্ডের হুবহু নকল সিগারেট তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে রাতের আঁধারে বিশেষ কৌশলে কাভার্ডভ্যান ও বিভিন্ন যানবাহনে করে এসব নকল সিগারেট দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তামাক ব্যবসার আড়ালে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পবন গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এর আগেও একাধিকবার তার গোপন আস্তানায় প্রশাসন অভিযান চালালেও তাকে পুরোপুরি থামানো সম্ভব হয়নি। প্রভাবশালী মহল ও সংশ্লিষ্টদের ছত্রছায়ায় প্রতিবারই পার পেয়ে যান তিনি এবং পরবর্তীতে আবারও দ্বিগুণ উৎসাহে শুরু করেন অবৈধ ব্যবসা।
মাঝে মাঝে অভিযানের পর স্থানীয়দের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—এবার কি সত্যিই থামবে এই চক্রের অপতৎপরতা, নাকি অতীত ইতিহাসের মতোই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে চক্রটির মূল হোতারা?
এ বিষয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনকে কেবল নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, অবৈধ এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন। সুত্র : আমিন হাসান, দৈনিক আজকের আওয়াজ