প্রতিবেদন প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, সময়ঃ ১১:৪০
ফেনী প্রতিািনধি :
কাজ শেষে প্রকল্প দুটির অবশিষ্টাংশ বা সাশ্রয় হওয়া ৭ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার এই ৭টি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট ১২ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার ৪৭৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এরমধ্যে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ১৩৫ টাকা। প্রকল্পগুলোতে মোট ৭ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ টাকা সাশ্রয় বা উদ্বৃত্ত থাকে, যা পরবর্তীতে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
ফেনী জেলা প্রশাসক সূত্র জানায়, সোনাগাজী উপজেলার ডাংগি খালের ৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটারের জন্য ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ৯৪৫ টাকা, ফুলগাজী উপজেলার তারালিয়া ও নোয়াপুরের গতিয়া খালের ২ কিলোমিটারের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা, পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ভেদা খালের ৩ কিলোমিটারের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা, ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী খালের ৫ দশমিক ৭২৫ কিলোমিটারের জন্য ১ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৩১ টাকা, দাউদপুর মধুয়াই খালের ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটারের জন্য ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাজা এবং দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুরের জয়নারায়ণপুর থেকে বিরলী খালের ১ কিলোমিটারের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা ও জয়লস্করের সিলোনিয়া বাজার হতে নেওয়াজপুর খাল পর্যন্ত ২ কিলোমিটারের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
এসব খালের কাজে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ২১লাখ ২৪ হাজার ১৩৫ টাকা। এরমধ্যে সোনাগাজী উপজেলার ডাংগি খালের ৫ কিলোমিটারের জন্য ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৬২১ টাকা, ফুলগাজী উপজেলার তারালিয়া ও নোয়াপুরের গতিয়া খালের ২ কিলোমিটারের জন্য ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৭৫৪ টাকা, পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ভেদা খালের ২ দশমিক ৬ কিলোমিটারের জন্য ৩১ লাখ ১৯ হাজার ৭৮২ টাকা, ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী খালের ৫ দশমিক ৭২৫ কিলোমিটারের জন্য ৮৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭০ টাকা, দাউদপুর মধুয়াই খালের ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার এরজন্য ১ কোটি ৫১ লাখ ২৮ হাজার ১৬৫ টাকা এবং দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুরের জয়নারায়ণপুর থেকে বিরলী খালের ১ কিলোমিটারের জন্য ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৭৪ টাকা ও জায়লস্করের সিলোনিয়া বাজার হতে নোয়াজপুর খাল পর্যন্ত ২ কিলোমিটারের জন্য ২৫ লাখ ৯১ হাজার ৮৬৯ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সূত্র আরো জানায়, ৭ খাল পুনঃখনন শেষে উদ্ধৃত্ত ছিলো ৭ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ টাকা। এরমধ্যে সোনাগাজী উপজেলার ডাংগি খালে উদ্ধৃত্ত ৪ কোটি ৯০ লাখ ২০ হাজার ৩২৪ টাকা, ফুলগাজী উপজেলার তারালিয়া ও নোয়াপুরের গতিয়া খালে উদ্ধৃত্ত ১৬ লাখ ৪১ হাজার ২৪১ টাকা, পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ভেদা খালের উদ্ধৃত্ত ৪৬ লাখ ৯ হাজার ৬১ টাকা, ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদআলী খালের উদ্ধৃত্ত ৬১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬০ টাকা, দাউদপুর মধুয়াই খালের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬১০ টাকা এবং দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুরের জয়নারায়ণপুর থেকে বিরলী খালের উদ্ধৃত্ত ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫২১ টাকা ও জায়লস্কর সিলোনিয়া বাজার হতে নোয়াজপুর খালের উদ্ধৃত্ত ২৫ লাখ ৬২ হাজার ১২৬ টাকা। এসব উদ্ধৃত্ত টাকা জেলা প্রশাসক থেকে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা কালবেলাকে জানান, ৪৩ দিন হিসেবে কাজগুলো বরাদ্দ ছিল। কাজ শুরু করতে দেরি হওয়ায় সময় কমে গেছে। কাজ যখন শুরু হয়েছে তখন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত খনন শেষ হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় গাছ লাগানো বা আনুসাঙ্গিক বিষয় নিয়ে ৮ দিন হিসেবে শ্রমিক মজুরি দিয়ে বাকি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক কালবেলাকে জানান, সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে ফেনীতে ৭টি খালের কাজ শেষে প্রকল্পের উদ্ধৃত্ত টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।