প্রতিবেদন প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, সময়ঃ ০১:০১
জনতার পত্রিকা :
হঠাৎ করেই কেন জানিনা প্রচন্ড হতাশা কাজ করছে আর খুব কান্না পাচ্ছে। আমার এই কঠিন সংগ্রাম টা মনে হচ্ছে আরো দীর্ঘ হচ্ছে। আমি কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না। যে পথেই যায় সেই পথেই কাটা ভরা। আমি কোনো দিক যেতে পারছি না ঠিক নদীর মাঝ পথের মতো।
একটি প্রত্যন্ত গ্রামে একটা মেয়ে হয়ে স্কুল করাটা আমার জন্য কখনো সহজ ছিলো না। অনেক কটু কথা, অনেক বাধা, ব্যক্তিগত অনেক স্বপ্ন বিসর্জন,দিয়ে দিন রাত এক করে মানসিক ও শারীরিক শ্রম দিতে হয়েছে। শুধু এলাকায় বাচ্চাদের কথা ভেবে বাবার দেওয়া জমিতে স্কুল টা করেছি। আসলে আমাদের সমাজটা এমন কেন? একজন অবিবাহিত মেয়েকে নিয়ে মানুষের ভাবনার পরিধি খুবই সংকীর্ণ। একটা মেয়ে নিজের বিয়ের বা সংসারের কথা না ভেবে পুরো সমাজের বা শিক্ষার আলোর জন্য একটা আস্ত স্কুল করে ফেলতে পারে এই বিসর্জন ত্যাগকে সমাজের মানুষ নোংরা ভাবে নেই। কিছু নিরব বিসর্জন হয়তো কারো চোখে পড়ে না কিন্তু সমালোচনা ঠিকই করে। আসলে সমাজে নিঃস্বার্থ মানুষের সংখ্যা খুবই কম। প্রতিটা মানুষই উপকার করে বিনিময় আশা করে। ভেতরের যুদ্ধটা আসলেই ভীষণ একাকীত্বের। বাইরে থেকে মানুষ শুধু সফল বা ব্যর্থতার খতিয়ান খোঁজে, পিছনের ক্ষতগুলো কেও বোঝে না দেখে না।
আমি জানিনা আমি কিভাবে এই দীর্ঘ কষ্টের পথ পাড়ি দিবো। তবে পথ যত দীর্ঘ হচ্ছে ততই আমি ভেঙ্গে পড়ছি। ইদানীং এমন হয়েছে অনেক কিছু মেনে নিতে পারছি না। স্রষ্টা আমাকে এতো বড় একটা দায়িত্ব দিলো কিন্তু ধৈর্য্যহারা হয়ে পড়ছি। সত্যি আমি খুব ক্লান্ত সংগ্রাম করতে করতে। আমি জানিনা এর শেষ কোথায়। আর কত আঘাত পেলে আর কত নিজের সুখ বিসর্জন দিলে এই দীর্ঘ পথের অবসান হবে? সত্যি আমি খুব ক্লান্ত, প্রচুর কান্না পাচ্ছে আমি খুব ক্লান্ত।