প্রতিবেদন প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, সময়ঃ ০৯:৫৪
অনলাইন ডেক্স :
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে ড্রোন-বহরের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে পেন্টাগন। এ লক্ষ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নির্মাতাদের খুঁজে বের করতে ‘ড্রোন ডমিন্যান্স’ নামে ১৮ মাস মেয়াদি একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কম খরচের যুদ্ধবিমানের বিশাল বহর গড়ে তোলার দৌড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন ঐতিহ্যবাহী বড় প্রতিরক্ষা জায়ান্টদের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন স্টার্টআপগুলোর দিকে ঝুঁকছে। এসব স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতা মূলত ড্রোন রেসার, শৌখিন ড্রোন চালক এবং এমন কিছু কোম্পানি, যাদের কাজ ছিল গলফ কোর্স পর্যবেক্ষণ করা কিংবা আকাশে আলোক প্রদর্শনীর আয়োজন করা।
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট ও সস্তা ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে ওঠার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হলো। পেন্টাগন মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো জরুরি।
এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ী কোম্পানিগুলোকে ৩০ লাখ পর্যন্ত ড্রোন তৈরির জন্য ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির অংশীদার করা হবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আরো বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে, যেখানে ড্রোন যুদ্ধ প্রোগ্রামকে নাটকীয়ভাবে প্রসারিত করতে আগামী বছরের প্রতিরক্ষা বাজেটে ৫৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান ধরে রাখাদের মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টার্টআপ ‘নেরোস’, যার প্রতিষ্ঠাতা সাবেক ড্রোন রেসিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সোরেন মনরো-অ্যান্ডারসন। এ ছাড়া রয়েছে ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রস্তুতকারকের অংশীদার ব্রিটিশ কোম্পানি ‘স্কাইকাটার’।
পরীক্ষা করা এই ড্রোনগুলো তুলনামূলকভাবে সস্তা, যার প্রতিটির খরচ প্রায় ৫ হাজার ডলার এবং এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে একবার ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি। ড্রোন রেসিংয়ে ব্যবহৃত প্রযুক্তির আদলে তৈরি এই ড্রোনগুলো উচ্চ গতিতে চলাচল করতে পারে এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
বিজয়ী নির্বাচনের জন্য পেন্টাগন কতগুলো চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যেখানে সামরিক কর্মীরা দূরপাল্লার হামলা থেকে শুরু করে ভবনের অভ্যন্তরে আক্রমণ পরিচালনার মতো বিভিন্ন মিশনে ড্রোনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করছেন। পেন্টাগনের লক্ষ্য হলো ঐতিহ্যবাহী বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া দীর্ঘায়িত ক্রয় প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা।
চলতি বছরের শুরুতে জর্জিয়ার ফোর্ট বেনিংয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম রাউন্ডে ২৬টি কোম্পানি অংশ নিয়েছিল। ওই রাউন্ডে ‘স্কাইকাটার’ শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং আড়াই হাজারের বেশি ড্রোনের সবচেয়ে বড় অর্ডারটি লুফে নেয়।
প্রতিযোগিতার পরবর্তী রাউন্ড ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে গ্যারেজ এবং ছোট ওয়ার্কশপে শুরু হওয়া স্টার্টআপগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সামরিক ড্রোন প্রোগ্রামে জায়গা করে নেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করছে।
পেন্টাগন কর্মকর্তাদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধগুলো মূলত এমন সাশ্রয়ী মূল্যের ড্রোনের ঝাঁকের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হতে যাচ্ছে।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।