১ জুন রামিসা হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি


আদালত প্রতিবেদক : রাজধানীর পল্লবীতে বছর বছরের স্কুল ছাত্রী‎ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

 

‎রোববার বেলা ৩টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভুঁইয়া সিএমএম আদালতের জিআর শাখায় এই চার্জশিট দাখিল করেন।

‎‎চার্জশিটে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন,‘আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর শিশু রামিসাকে হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যায় সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।চার্জশিটে নিহতের বাবা-মাসহ ১৫ জনকে সাক্ষী করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। 

 

‎‎এদিকে মামলার দ্রুত বিচার শুরুর জন্য রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বপ্না ও ১১ টার দিকে সোহেলকে কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। চার্জশিট দাখিল হওয়ার পর তৎক্ষনাৎ তা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক সনাক্ত করেন। এরপর তা বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় চীফ মেট্টোপলিটন মাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোস্তাফিজুর রহমান তৎক্ষনাৎ বিচারিক আদালত শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করেন। 

‎‎শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মানলার নথি পাওয়ার পর বিচারক মাসরুর সালেকীন হাজতখানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী তাদের হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। এরপর এই মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট আমলে প্রস্তাব করেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট আমলে গ্রহণ করে আগামী ১ জুন চার্জ গঠনের শুনানির দিন ঠিক করেন।

‎‎এর আগে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে তৃতীয় তলায় ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকান্ডের এই ঘটনা ঘটে। ‎ঘটনার পর বাসা থেকেই স্বপ্না আক্তার আটক হন এবং ঘটনা ঘটিয়ে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়া সোহেল রানাকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ। 

‎‎ঘটনার দিনই নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকেই আসামি করে পল্লবী থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। ‎পরদিন গত ২০ মে উভয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকারোক্তি করে জবানবন্দি প্রদান করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক আসামি স্বপ্নাকে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে নিহতের ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রতিবেদন হস্তান্তর করে সিআইডি। 

‎‎এর আগে গত ২১ মে রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান এবং দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। এরপর গত শনিবার এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আগামী এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিনি ঘোষণা করেন। এছাড়া রোববার মামলার বিচারকাজ পাঁচ–সাত দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

‎‎এছাড়া মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে গত ২৩ মে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (সরকারি কৌঁসুলি) নিয়োগ দিয়ে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে। 

‎‎তাছাড়া এই নৃশংস হত্যাী ঘটনার পর নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন দল ও সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। গত শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

রামিসা হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না বলেও গত ২২ মে ঘোষণা করে ঢাকা আইনজীবী সমিতি। সে অনুযায়ী রোববার শুনানিকালে আসামিদের পক্ষে কোন আইনজীবী ছিলেন না। 

‎‎মামলায় অভিযোগ করা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতো। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে ৫ম তলা বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার একটি রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে রামিসার দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করে তার মা। সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে এসে ভেতরে প্রবেশ করেন। সোহেল ও স্বপ্নার শোয়ার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাড়ানো ছিল।

‎‎স্বপ্না জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তার স্বামী সোহেল রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করে, যৌনাঙ্গ কাটে। দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের রুমে খাটের নিচে রাখে। মাথা বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রীল কেটে সোহেল পালিয়ে যায়। রামিসাকে রুমের মধ্যে নেওয়ার সময় আরেকজন ছিল বলে জানায় স্বপ্না।


Email: bijoynews24bd@gmail.com

প্রকাশকঃ রোকমুনুর জামান রনি

সম্পাদকঃ শামসুল আলম স্বপন

ফোনঃ 01716954919 / 01722158130

যোগাযোগঃ A-231 Housing Estate, Kushtia-7000.

© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।