প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, সময়ঃ ১০:২৬
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
মানুষ গড়ার মহান দায়িত্ব যাঁদের কাঁধে, সেই শিক্ষকরাই সমাজের নৈতিক ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ। কিন্তু সেই স্তম্ভে যদি ফাটল ধরে, তবে তার অভিঘাত পৌঁছে যায় সমাজের গভীরতম স্তর পর্যন্ত। এমনই এক অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার যুগিয়া রাস্তাপাড়া এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার কাসেমুল উলুম লাল মুহাম্মাদ ক্বওমী মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ দেলয়ার হোসেন হুজুরের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২২ মে) ঘটেছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং অভিভাবক ও সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, ঘটনাটি জানার পর তাঁরা প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্ত শিক্ষককে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। তবে এখানেই শেষ নয়—স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি প্রকাশ্যে না এনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণভাবে মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে করে জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয় ও অসন্তোষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, “এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু সামাজিক চাপ ও ভয়ের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো আড়ালেই থেকে যায়।” তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ তদন্ত ও বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে এমন ঘটনা।
রবিবার (২৪ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকাজুড়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি গণমাধ্যমে না তোলার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রেখে আসছে। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও নৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা—যাতে অভিভাবকদের আস্থা অটুট থাকে এবং শিক্ষার্থীরা পায় একটি নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।