প্রতিবেদন প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, সময়ঃ ০২:৫৮
: শামসুল আলম স্বপন :
কুষ্টিয়া পৌরসভা প্রথম শ্রেনীর হলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন পৌরবাসী ছিল বঞ্চিত । নির্বাচিত পৌরমেয়র আনোয়ার আলী সব সময় তার কর্মী সমথর্কদের কান কথা শুনেই কাজ করতেন বেশী এমন অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। যে এলাকায় তিনি ভোট কম পেতেন সে এলাকার জনগন বঞ্চিত হত উন্নয়ন থেকে । আবার যে এলাকায় তার বিরোধী কোন নেতা বাস করেন সে এলাকায় উন্নয়নের ধারে কাছেও যেতেন না পৌরমেয়র। উদাহরন স্বরুপ বলা যায় চাউলের বর্ডার থেকে রাইনি বটতলা পর্যন্ত রাস্তা চলাচালের অযোগ্য হলেও দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি ওই রাস্তা মেরামত করেননি এমনকি ড্রেণ নির্মাণ না করার কারণে রাস্তাটি সব সময় জলবদ্ধ হয়ে থাকতো । এ করাণে ৩ বছরেরও বেশী সময় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এলাকাবাসীর এবং ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারির । গুরুত্ব পূর্ণ এ রাস্তা সংস্কার না করার কারন হিসেবে জানাযায় ওই রাস্তার বাসিন্দা আওয়ামীলীগ নেতা হাজি রবিউল ইসলাম । যার সাথে পৌর মেয়র আনোয়ার আলীর ছিল সাপে-নেওলে সম্পর্ক । যে কারণে ওই রাস্তার উন্নয়নে আনোয়ার আলীর ছিল চরম অনিহা। অবশেষে জনগণের চাপে পড়ে রাস্তাটি মেরামত ও ড্রেণ নির্মাণ করতে বাধ্য হন আনোয়ার আলী । পৌর মেয়রের আমলে এমন অভিযোগের অন্ত ছিল না।
ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর বদলে গেছে কুষ্টিয়া পৌরসভার চালচিত্র । বিশেষ করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব), স্থানীয় সরকার, জনাব আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত জনগণ তাঁকে আর্শীবাদ মনে করছেন । পৌরদপ্তরে যে কোন সেবা পেতে নাগরিকদের এখন আর ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে না। টেবিলে টেবিলে পড়ে থাকছে না ফাইলের স্তুপ । অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির যেন লাগাম টেনে ধরেছেন পৌর প্রশাসক জনাব আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম । ফ্যাসিষ্টদের দোসররা দু-একজন থাকলেও তারা বদলে গেছেন রাতারাতি । পৌরসভায় এখন সর্বোচ্চ সেবা দিতে ব্যস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।
মিলপাড়ার মোশারফ হোসেন বলেন, পৌরমেয়র আনোয়ার আলীর সময় জন্মসনদ পেতে হয়রানির পাশাপাশি টাকাও গুনতে হত । কিন্তু এখন দু-দিনের মধ্যেই পানির মত কাজ হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সবাই বলছেন পৌর প্রশাসক স্যার অত্যন্ত সৎ মানুষ এবং জনদরদী। তিনি এ চেয়ারে বেশীদিন থাকলে কুষ্টিয়াবাসীর মঙ্গল হবে বলেই আমার বিশ্বাস। আমরা দোয়া করি স্যারের জন্য ।
মোল্লাতেঘরিয়া পশ্চিম ক্যানাল পাড়ার বাসিন্দা কলেজ ছাত্রী রাজিয়া বলেন, আমার জন্মের পর আমাদের এলাকা কোন পাকা রাস্তা দেখিনি। বর্ষাকালে ক্যানালের কাঁচা রাস্তায় এত পরিমাণ কাদা হত যে চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়তো । আমরা ভোট দিয়ে মেয়র -কাউন্সিলর বানিয়েও তাদের কাছ থেকে কোন উপকার পায়নি। গত সপ্তাহ থেকে এ রাস্তা পাকা করণের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা শুনেছি নতুন পৌর প্রশাসক স্যারের কল্যাণে রাস্তাটি পাকা হচ্ছে । আমরা সবাই স্যারের জন্য দোয়া করছি। আমি অনুরোধ জানাচ্ছি স্যার যেন আমাদের এই রাস্তাটি দেখতে আসেন। যাতে ঠিকাদার কাজে ফাঁকি দিতে না পারেন।
এ দিকে কুষ্টিয়া পৌরবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে পৌর প্রশাসক জনাব আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম নিয়েছেন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ । পৌর এলাকায় সরকারী উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় “ রিজিলিয়েন্ট আরবান এন্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ( RUTDP) নামে তিনি হাতে নিয়েছেন ১১টি বিশেষ প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে পৌর এলাকায় চলাচলের জন্য রাস্তা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেণ নির্মাণ । প্রকল্পটির কাজ চলমান। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জীবন যাত্রার মান বেড়ে যাবে বহু গুণে। এ সব খবর যারা জানেন তারা বলছেন বর্তমান পৌরপ্রশাসক আসলে কুষ্টিয়াবাসাীর জন্য আর্শীবাদ।
প্রতিবেদক :
শামসুল আলম স্বপন
সম্পাদক , জনতার পত্রিকা
ষ্টাফ রিপোটার, দৈনিক আমাদের সময় ও দি বাংলাদেশ টু ডে ।
সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক সংস্থা ।
মোবা : ০১৭১৬৯৫৪৯১৯
E-mail : bijoynews24bd@gmail.com
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।