প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, সময়ঃ ১১:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক : সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনশেষে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ। আজ তৃতীয় দিনে ১৫৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করবেন টাইগাররা। গতকাল বিনা উইকেটে ২১ রানে ইনিংস শুরু করেছিল পাকিস্তান। তবে নাহিদ রানা (৩/৬০), তাসকিন আহমেদের (২/৩৭) গতি আর তাইজুল ইসলাম (৩/৬৭) ও মেহেদী হাসান মিরাজের (২/২১) ঘূর্ণির সামনে ৫৭.৪ ওভারে ২৩২ রানে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছেন সফরকারীরা। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৬.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোরকার্ডে ১১০ রান জমা করেছে বাংলাদেশ। মাহমুদুল হাসান জয় ৫২ রান করেছেন। তবে দ্বিতীয় ইনিংসেও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি সাদা পোশাকে অভিষেক হওয়া তানজিদ হাসান। এবার তিনি ৪ রানে আউট হয়েছেন। প্রথম ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ২৬ রান। বাংলাদেশের উদ্ধোধনী জুটি ভাঙে ১৫ রানে। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হককে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন জয়। তিনি দলীয় ৯১ রানে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে ফজলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। মুমিনুল (৩০) আউট হলে দিনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়ার। এ সময় ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন বাবর আজম। তাদের গুরুত্বপূর্ণ এই উইকেটটি তুলে নিয়েছেন গতিবাজ নাহিদ রানা। নাহিদের ১৩৭ কিলোমিটার গতির বলটা মিড অনে দাঁড়িয়ে থাকা মুশফিকুর রহিমের হাতে তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন বাবর। সব মিলিয়ে তিন টেস্টে নাহিদের ৩৯ বল খেলে পাকিস্তানের ব্যাটার রান করতে পেরেছেন ২২, তিনবার আউট হওয়ায় বাংলাদেশের তরুণের সামনে তার ব্যাটিং গড় ৭.৩৩। দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাবরকে আউট করার অনুভূতি জানাতে গিয়ে নাহিদ রানা বলেন, ‘আসলে প্রত্যেক ব্যাটসম্যানকে আউট করতেই মজা লাগে। কারণ প্রত্যেকটি উইকেটই আমার জন্য এবং আমার দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কোনো ব্যাটসম্যানকে বলে বলে আউট করতে পারবেন না। এই ব্যাটসম্যানটা ভালো ব্যাটসম্যান কিংবা বিশ্ব ক্রিকেটের বড় নাম... কখনও বলে বলে আউট করতে পারবেন না। আমি শুধু আমার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকার চেষ্টা করি এবং চেষ্টা করি কীভাবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করে দলকে সহায়তা করা যায়।’ ১৫৬ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের তৃতীয় দিনের পরিকল্পনা কী থাকবে জানাতে গিয়ে নাহিদ বলেন, ‘যেহেতু টেস্টের দুই দিন শেষ হয়েছে, আরও তিন দিন আছে। আমরা কালকে (আজ) যতক্ষণ পারব ব্যাটিং করব। সেরকম কোনো টার্গেট নেই যে, ২০০ কিংবা ২৫০, ৩০০ দিতে হবে। কারণ অনেক টাইম পড়ে আছে। কালকের (আজ) পরে আরও দুই দিন আছে। তো আমরা চেষ্টা করব কালকে (আজ) ফুল ডে ব্যাটিং করার।’ সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ রান করেছে। এতে লিটনের অবদান ১২৬। তার শতক ছাড়া বাকি ব্যাটাররা নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান অধিনায়ক শান্তর। বাংলাদেশের চালকের আসনে বসার টার্নিং পয়েন্ট লিটনের সেঞ্চুরিই বলে মনে করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের টার্নিং পয়েন্টটা ছিল লিটন দার ব্যাটিং। শেষের দিকে তাইজুল ভাই, তাসকিন ভাই, শরিফুলের ব্যাটিংও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বোলিংয়ে আমরা আলহামদু লিল্লাহ ভালো করেছি; কিন্তু লিটন দাদার সেঞ্চুরি না হলেও আমরা একটু ব্যাকফুটে থাকতাম। তো আমি মনে করি টার্নিং পয়েন্ট তার সেঞ্চুরিই।’
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।