প্রতিবেদন প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, সময়ঃ ০৯:৪৭
‘মা’-এই ছোট শব্দটির গভীরতা অসীম। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর, সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরতার নামই মা। সন্তানের প্রথম স্পর্শ, প্রথম আশ্রয় ও প্রথম ভাষাচর্চা শুরু মায়ের কাছেই। তাই পৃথিবীর প্রায় সব ধর্ম ও সংস্কৃতিতে মাকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় স্থান দেওয়া হয়েছে।
সন্তান যে নামেই ডাকুকÑ মা, আম্মা, আম্মি বা মাম্মিÑ এই ডাকের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে ভালোবাসা, নিরাপত্তা আর প্রশান্তি। সন্তান যত বড়ই হোক, মায়ের চোখে সে চিরকালই শিশু। এই সম্পর্ক চিরন্তন, অবিনাশী। বাস্তব জীবনে অনেক সময় সন্তানরা মায়ের ত্যাগের যথাযথ মূল্য দিতে পারে না, তবু মায়ের ভালোবাসা কখনও কমে না। অবহেলা, দূরত্ব কিংবা কষ্টÑ সবকিছুর পরও মা সন্তানের মঙ্গল কামনা করেই জীবন কাটান।
মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের একটি উপলক্ষ হিসেবে বিশ্বজুড়ে মা দিবস পালিত হয়। সাহিত্য ও সমাজে মায়ের অবস্থানও সব সময় অনন্য। মানুষ বিপদে পড়লে কিংবা একাকিত্ব অনুভব করলে মায়ের কোলই হয়ে ওঠে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।
আমার জীবনেও ‘মা’ এক অনন্য স্মৃতি ও অমূল্য সম্পদ। ১৯৮৩ সালের ১৭ জুলাই বাবা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করার পর আট সন্তানকে একাই বড় করেছেন মা। আমি তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর মা নিজ হাতে বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার করতেন, ফুলগাছে পানি দিতেন, এরপর আমাদের ডাক দিতেন চায়ের জন্য। সংসারের প্রতিটি কাজÑ রান্নাঘর গোছানো, পুকুরঘাটে থালাবাসন ধোয়াÑ সবই তিনি অক্লান্তভাবে করতেন।
১৯৯৪ সালের ২৫ মে আমার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন। সেদিনও মা আমাদের জন্য রান্না করছিলেন। দাদা ভাই (বড় ভাইয়ের পর) অসুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর তাকে নিয়ে মা সারাদিন উদ্বিগ্ন ছিলেন। ওই দিনই পাশের বাড়ির এক শিশুর দুর্ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মা। দুপুরের পর কলপাড়ে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান চিরদিনের জন্য।
সেই দিন থেকে ‘মা’ আমা
র কাছে শুধুই স্মৃতি, তবে অনুভবে তিনি আজও জীবন্ত। এখনও মনে হয়, মা পাশে আছেন, আমাদের জন্য দোয়া করছেন। মে মাস এলে সেই স্মৃতি আরও গভীর হয়ে ওঠে।
অনেকেই মাকে কাছে পান না কেউ দূরে, কেউ হারিয়ে ফেলেছেন চিরতরে। তাই যারা এখন কাছে পাচ্ছেন, তাদের উচিত মাকে যত্ন ও সম্মান করা।
মা মানেই ভালোবাসা, মা মানেই জীবন। তাই শুধু মা দিবসে নয়, প্রতিদিনই মাকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো সন্তানের প্রকৃত দায়িত্ব।
মোহাম্মদ আখতার-উজ-জামান : সহসম্পাদক, দৈনিক আমাদের সময়
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।