প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ১২:৫২
দিনাজপুর প্রতিনিধি :
সদিচ্ছা আর উপস্থিত বুদ্ধি থাকলে যে অনেক সংকটই কাটিয়ে নেওয়া সম্ভব, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর সেই দিনমজুর মো. এনামুল হক (৬৫)। আজ মঙ্গলবার তাঁর কাজের জন্য সম্মাননা ও আর্থিকভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি। তাৎক্ষণিক লাল কাপড় না পেয়ে লাঠিতে কলার মোচার লাল পাপড়ি উঁচিয়ে ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেনকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার কবল থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন এনামুল।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এনামুল হকের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ। তাঁকে ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদ ও আর্থিক সম্মানী দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান প্রকৌশলী (পশ্চিম) আহম্মদ হোসেন মাসুমসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপদ ট্রেন চলাচলে বাংলাদেশ রেলওয়েকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে সহযোগিতা করে যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে একজন সুনাগরিকের দায়িত্ব পালন করায় বাংলাদেশ রেলওয়ে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এ পুরস্কার দেয়।
গতকাল সোমবার ঈদের তৃতীয় দিন সকালে ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী পূর্ব চণ্ডীপুর এলাকায় এনামুল হক রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী-ঢাকা-খুলনা-রাজশাহীগামী রেলপথের প্রায় এক ফুট অংশ ভাঙা দেখতে পান। তাৎক্ষণিক তিনি আশপাশের লোকজনকে ডেকে রেলওয়ের অফিসে ফোন করতে বলেন। সে সঙ্গে দ্রুত পাশের একটি কলাবাগান থেকে কলার মোচা ভেঙে এনে পাপড়ি (মোচার অংশ) লাঠিতে বেঁধে রেললাইনে দাঁড়িয়ে যান।
মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী আন্তনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি কাছাকাছি চলে আসে। কিন্তু এনামুলের হাতে ‘লাল পতাকা’ দেখে ট্রেনটি নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে যায়। কয়েক শ যাত্রী ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যান। প্রতিদিন ওই পথে ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, পার্বতীপুর, চিলাহাটিসহ উত্তরাঞ্চলে ১০-১৫টি ট্রেন যাতায়াত করে।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।