প্রতিবেদন প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৩:২৩
ক্র্রিড়া ডেক্স :
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালের ফল নিয়ে করা আপিলে জয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে মরক্কোকে। অপরদিকে শিরোপা কেড়ে নেওয়া হয়েছে সেনেগালের কাছ থেকে—মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছে আফ্রিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরেছিল মরক্কো। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে সেনেগালের বিরুদ্ধে একটি পেনাল্টি দেওয়াকে কেন্দ্র করে তারা মাঠ ছেড়ে চলে গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
পরে খেলা আবার শুরু হলে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে জয় পায় সেনেগাল। কিন্তু আপিল বোর্ড রায়ে জানায়, অনুমতি ছাড়া মাঠ ছাড়ায় সেনেগাল ম্যাচ পরিত্যাগ করেছে বলে গণ্য হবে। ফলে ম্যাচের ফল ৩-০ গোলে মরক্কোর পক্ষে নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে শৃঙ্খলা বোর্ড মরক্কোর আপত্তি খারিজ করেছিল। তবে আপিল বোর্ড সেই সিদ্ধান্ত বদলে মরক্কোর পক্ষে রায় দেয়।
রায়ে বলা হয়, সেনেগাল দলের আচরণ প্রতিযোগিতার নিয়মের আওতায় পড়ে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল যদি কোনো কারণ ছাড়াই খেলা চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বা রেফারির অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে মাঠ ত্যাগ করে, তবে সেই দলকে পরাজিত ধরা হবে এবং প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ক্রীড়া সালিশি আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সেনেগাল।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে একটি কর্নার থেকে আক্রমণের সময় মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজকে ফেলে দেওয়ায় ভিডিও সহকারী রেফারির সাহায্যে পেনাল্টি দেন কঙ্গোর রেফারি জঁ-জাক এনদালা। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগাল দল মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
পরে দলের তারকা খেলোয়াড় সাদিও মানের অনুরোধে তারা মাঠে ফিরে আসে। অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ম্যাচ জিতলেও পুরো ঘটনাটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর সেনেগালের কোচ পাপে বুনা থিয়াওকে শাস্তি দেওয়া হয়, যদিও তা শুধু আগামী বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোর জন্য প্রযোজ্য।
এই রায়ের ফলে ৫০ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকা কাপের শিরোপা জিতল মরক্কো।
এক বিবৃতিতে মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন জানায়, তারা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছে এবং তাদের লক্ষ্য ছিল কেবল প্রতিযোগিতার নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
তারা আরও জানায়, নিয়মের প্রতি সম্মান, প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পরে জানানো হবে।
সেনেগালের এই আচরণ ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সফল একটি আসরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের আগে মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই পদত্যাগ করেছেন।
এছাড়া ম্যাচে সংঘর্ষের ঘটনায় মরক্কোর খেলোয়াড় ইসমাইল সাইবারির ওপর আরোপিত এক লক্ষ ডলারের জরিমানা বাতিল করা হয়েছে এবং তার নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে এক ম্যাচ করা হয়েছে।
সেনেগালের গোলরক্ষকের তোয়ালে নেওয়ার চেষ্টা করায় বলবয়ের ঘটনায় মরক্কোর ওপর আরোপিত জরিমানা কমিয়ে পঞ্চাশ হাজার ডলার করা হয়েছে।
তবে ভিডিও সহকারী রেফারির প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টার ঘটনায় মরক্কোর ওপর আরোপিত এক লক্ষ ডলারের জরিমানা বহাল রাখা হয়েছে।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।