logo

রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১১:২০ অপরাহ্ণ

অন্যায় দেখেও যারা প্রতিবাদ করেনা, তারা বোবা শয়তান

মন্তব্য প্রতিবেদন :
প্রতিবেদন প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | সময়ঃ ১২:৩৪
  • সংবাদ পাঠকঃ ৩৩৪৪ জন
photo

জনতার পত্রিকা : 

দেশবাসী জানে  জামাত কোন ইসলামী দল নয় । কারন তাদের রয়েছে হিন্দু শাখা । তারা ভারতের হিন্দু রাজ্যের তাবেদার । তারা রাম মূর্তি নিয়ে কোন প্রতিবাদ করবে না  তা দেশ বাসী জানে । প্রশ্ন হলো  চরমুনাই,মাওলানা মুফতি  মামুনুল হক্বরা প্রতিবাদ  করছে না  কেন ? 

 

ইসলামে যে কোন প্রাণীর ছবি, মূর্তি বা ভাস্কর্য নিষিদ্ধ হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল, এগুলোর পূজা করা, শ্রদ্ধা জানানো এবং এগুলোর কাছে মঙ্গল কামনা করা শিরকের প্রধান উৎস। তাই এগুলো তৈরি করা ভয়াবহ অপরাধ। হাদীছে এসেছে, অঙ্কিত ছবির মধ্যে আত্মা দিতে বাধ্য করা হবে, কিন্তু সে আত্মা দিতে পারবে না (বুখারী হা/২২২৫)। অবশেষে জীবনে যত ছবি তুলেছে সমস্ত ছবির মধ্যে আল্লাহ জীবন দিয়ে দিবেন। তখন সেগুলো একই সঙ্গে মেশিনের মত অনন্তকাল তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে (ছহীহ মুসলিম হা/২১১০)। তবে প্রাণীর ছবি ছাড়া গাছপালা বা কোন অন্য সব জিনিসের ছবি নির্মাণ করা যায় (ছহীহ বুখারী, হা/২২২৫)।
 
 
ইসলাম কেন মূর্তি-ভাষ্কর্য তৈরীকে নিষেধ করেছে তা একটু বিবেক দিয়ে ভাবলেই বুঝা যায়। কারণ মূর্তি তৈরির বিষয়টি শুধু তাত্ত্বিক নয়; বরং তা বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত। সৃষ্টির দায়িত্ব কেবল মহান আল্লাহর। আর একে যারা চিত্রিত করতে চায় তা অবশ্যই আল্লাহর ইচ্ছার বিরোধী। হযরত ঈব্রাহিম (আ,) এর ইতিহাস  তো আমরা জানি। তিনি র্মুর্তি নিমার্ণকারী নিজ  পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ  করেছিলেন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ।
 
মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সেই আল্লাহ, যিনি তোমদের আকৃতি গঠন করেন মায়ের গর্ভে, যেমন তিনি চেয়েছেন (সূরা আলে ‘ইমরান : ৬)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এরপর আকার-অবয়ব তৈরী করেছি (সূরা আল-‘আরাফ : ১১)। উপরিউক্ত আয়াত ও হাদীছ প্রমাণ করে সৃষ্টিকর্ম কেবল সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর জন্য; কোন সৃষ্টির জন্য নয়। সুতরাং কারো জন্যই এ সীমালংঘন করা জায়েয নেই।
 

হাদীস শরীফ মুতাবিক এরা বোবা শয়তান, এরা দুনিয়ার ক্ষমতার লোভে দ্বীনকে বিক্রি করে দিতে দ্বিধা বোধ করেনা । কুরান হাদীস মুতাবিক এসব লোকগুলোকে বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এক. উলমায়ে ছু' যাদেরকে সৃষ্টির নিকৃষ্ট জীব বলা হয়,  দুই. বোবা শয়তান, তিন, মুনাফেক।

এরা ক্ষমতার লোভে কি না করতে পারে? রংপুরের গাইবান্ধার রাম মূর্তি সম্পর্কে মোটামোটি ছোট থেকে বড় আবাল বৃদ্ধারা পর্যন্ত সবার মুখে একটাই কথা,আমাদের ইসলামী দেশে এই মূর্তি স্থাপন করা যাবে না।

কিন্তু  নামধারী আলেম যারা মুখে মুখে ইসলামের জন্য দেশ বিদেশ একাকার করে ফেলে আজ তাদের মুখে কোন কথা নেই ।  এরা সামান্য মূর্তির বিরুদ্ধে বলতে পারেনা,একটা মূর্তি ধ্বংস করাতো দুরের কথা। 

এরা নাকি ক্ষমতায় আসলে দ্বীন কায়েম করে ফেলবে, সবকিছু ইসলামী ব্যবস্থায় চালাবে। এরা যেখানে একটা মূর্তি নিয়ে সম্মেলন করতে পারছেনা, মূর্তির বিরুদ্ধে একটা বক্তব্য দিতে পারছেনা এরা কি ভাবে আলেম হয়?? এরা আলীম হওয়ার তো দুরের কথা, মুসলমান হয় কিভাবে এটায় জানার  বিষয়।

আর এদের যারা অন্ধ ভক্ত তাদেরকে বলছি,আপনারা আপনাদের হাদী মালানা মুফতে মামুনুল হক্ব এর বিষয়ে এখন কি মন্তব্য করবেন? অবশ্যই বলবেন উনি অসুস্থ, উনার ডায়েরিয়া হচ্ছে অথবা উনি কোমায় আছেন।

আমরা বলবো, উনি ঈমান না থাকার কারনে ,হাক্বীকি মুসলমান না হওয়ার কারনে এই প্রতিবাদ সে কখনো করতে পারবেনা। নাউযুবিল্লাহ

আল্লাহ পাক এই নামধারী মুসলমান উলামায়েদের চেনার তৌফিক দান করুন। আমীন 

 

 

 
শামসুল আলম স্বপন
সভাপতি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক সংস্থা

ও 

সাবেক জেলা গ্রামসরকার প্রধান, বৃহত্তর কুষ্টিয়া।
মোবা :০১৭১৬৯৫৪৯১৯

শেয়ার করুন